শিক্ষা ও সাহিত্য

সমন্বিত নয়, গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

কেন্দ্রীয় বা সমন্বিত নয়, গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা (ক্যাট) ব্যবস্থায় বড় পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয় না আসায় বুধবার ভিসিদের এক বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) এই সিদ্ধান্ত হয়। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আলাদা পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ পর্যায়েও ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করে থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা রকম ভোগান্তি ও হয়রানি পোহাতে হয়। শিক্ষার্থীদের কষ্ট থেকে রেহাই দিতে কেন্দ্রীয়ভাবে এক বা একাধিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও একাধিকবার এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু বুয়েটসহ ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলর তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ফলে এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গুচ্ছবদ্ধ করা হবে। সে অনুযায়ী, সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হবে একটি গুচ্ছে। এ ছাড়া সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি, সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি এবং সব সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হবে আলাদা। আবার সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান এবং বিজনেস স্টাডিজের বিভাগ থাকায় এ ক্ষেত্রে তিনটি পরীক্ষা আয়োজনের চিন্তাও চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, সে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ফের বৈঠকে বসবেন ভিসিরা।

কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার রোডম্যাপ তৈরির লক্ষ্যে বুধবার বিকালে ইউজিসিতে পূর্বনির্ধারিত ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের দুই ভিসি যোগও দেন। কিন্তু আগেভাগেই ৫ বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় অন্য ভিসিরা এই পদ্ধতির বিকল্প অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেন বৈঠকে। এরপরই গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষার বিষয়টি উঠে আসে।

এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করার ক্ষেত্রে পরীক্ষা গ্রহণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি এই ব্যবস্থায় না থাকে তাহলে ৭০-৮০ হাজার পরীক্ষার্থীর রাজধানীতে পরীক্ষা নেয়ার কেন্দ্র থাকে না। অনুরূপভাবে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে একই সমস্যা। এমনি নানাদিক পর্যালোচনায় গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষার পক্ষেই ভিসিরা মতামত দিয়েছেন।

বৈঠক শেষে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে মিলিত হন। তিনি বলেন, ভিসিদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ পদ্ধতিতে দেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেবে।

তিনি বলেন, ‘আজ (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা এ পদ্ধতিকে সাধুবাদ জানালেও তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে যুক্ত হতে পারছেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে আমাদের চেষ্টা ও দরজা খোলা থাকবে। যারা এতে যুক্ত হতে চাবে তাদের নেয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইউজিসির সদস্য মো. আলমগীর বলেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। তারা উপ-কমিটি তৈরি করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণয়ন, ফলাফল প্রকাশসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, আগের মতো প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন নেয়া হবে। আবেদনকারীদের রোল নম্বর অনুযায়ী গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার আয়োজন করে সেই অনুযায়ী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলাফল পাঠিয়ে দেয়া হবে। সবকিছু কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপ-কমিটির সদস্যদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আওতায় কলেজগুলোতেও গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই পরীক্ষার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ পাবে। অর্থাৎ বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী চাইলে মানবিকের কোনো বিষয়েও ভর্তির সুযোগ পাবে। সে ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার মধ্যে এ ধরনের কোনো একটি ব্যবস্থা রাখা হবে।

ইউজিসি পরিচালক (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) মো. কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টিতে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ছাত্র ভর্তি করা হচ্ছে। বড় ৫টি বাদ গেলে এখন ৩৫টি নিয়ে হবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

Leave a Comment